পুরুষদের টাখনুর উপরে কাপড় পড়তে হবে কেন ?

পুরুষদের টাখনুর উপরে কাপড় পড়তে হবে কেন ?

টাখনুর নীচে যদি কাপড় পরা হয়  তাহলে সমস্যা কি ?  ——>>

আসসালামু আলায়কুম

প্রিয় পাঠক
আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যাদের স্বভাব
হচ্ছে বুঝে না বুঝে তর্ক করা। আর
পুরুষের টাকনুর উপরে কাপড়
পরা নিয়েও অনেকে তর্ক করেন।
অনেকে বলে আমি অহংকার
করি না। অনেকে অনেক কিছু
বলে থাকে এটা জানার পরও
যে রাসূল (সা: বলেছেন।
আপনি মানবেন
না সেটা আলাদা ব্যপার কিন্তু তর্ক
এবং হাদীস কিম্বা রাসূলের
কথা মিথ্যে বলে প্রমান করার
চেষ্টা করে অনেকে।রাসূল
বলেছেন পুরুষ টাকনুর নিচে কাপড়
পড়া অহংকার এর অন্তর্ভুক্ত।আর
আপনি বলেন আমি অহংকার
করি নাই। তার মানে রাসূল
মিথ্যে বলছেন ?(নাউজুবিল্লাহ)
যে রাসুল(সা)এর কথা-কাজ তার
নিয়ে আসা দিনের এবং তার
কোনো প্রকার
বিরোধীতা করবে সে -কাফের।
এই বেপারে আল্লাহ বলেন –
আপনি বলুন,
তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর
হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর
রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে ?
তোমরা কোনো প্রকার ওজর পেশ
করো না, কারণ তোমরা ঈমান আনার
পরে কাফের হয়ে গিয়েছ।-
>সূরা আত্-তাওবা: ৬৫, ৬৬
————->>
পরুষদের টাখনুর উপরে কাপড়
পড়তে হবে কেন ?
—>
-> কারণ রাসূল (সা)বলেছেন আর
মহান আল্লাহ বলেছে রাসুলের
আনুগত্য করতে। আল্লাহ যখন হুকুম করবেন
আমরা এর
পিছে কোনো যুক্তি কোনো কারণ
খুজবোনা। আর এটাই হলো ইমান।
আল্লাহ বলেন –
আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও
রসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত
করা হয়।(আল-ইমরান-১৩২)
রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ
কর, আর যা থেকে সে তোমাদের
নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও
এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয়
আল্লাহ
শাস্তি প্রদানে কঠোর।’ {সূরা আল-
হাশর, আয়াত : ০৭}
—>
আলোচনা ও হাদিসের দলিল-টাখনুর
নীচে কাপড় পরা
আজকাল
অধিকাংশ কিশোর, যুবক
কিংবা বৃদ্ধ টাখনুর উপরে প্যান্ট
পরা কে ‘ইজ্জতের প্রশ্ন’ মনে করে ,
তাই প্যান্টকে পায়ের পাতা পর্যন্ত
ঝুলিয়ে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ
করে । আর এমন অনেক
মেয়ে আছে যারা টাখনুর
উপরে বা তারও উপরে প্যান্ট
পরা কে ‘সম্মান জনক’ ব্যাপার
মনে করে । একটু ভাবলেই
বোঝা যায় , ব্যাপারটা একজন সুস্থ
মস্তিষ্কের মেয়ের জন্য
কতোটা “লজ্জাজনক”।
ভাই , টাখনুর উপরে প্যান্ট
পরা আল্লাহ্র হুকুম এবং এই
ব্যাপারে ইসলামে কঠোর নিষেধ
আছে । আপনি মানলে ইসলামের
কোন লাভ-ক্ষতি নাই , না মানলেও
কোন লাভ-ক্ষতি নাই , ইসলাম যেমন
আছে তেমন-ই থাকবে । কিন্তু
মানা বা না মানার উপর আপনার
নিজের লাভ-ক্ষতি নির্ভর করে ।
একটু চিন্তা করে দেখুন, কেন
আপনি আপনাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ
করবেন? টাখনুর ওপর প্যান্ট
পড়তে কিসের এত লজ্জা আপনার?
আপনি হয়ত ভাবছেন, মানুষ
কি ভাববে যদি টাখনুর ওপর প্যান্ট
পরি……তাই না? কিন্তু, ক্বিয়ামতের
দিন যখন আল্লাহ আপনার সাথে কোন
কথা বলবেন না, আপনার
প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন
না এবং আপনাকে পাক-সাফ করবেন
না আর
আপনাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ
করবেন তখন কি এই সমাজের
লোকেরা আপনার
পক্ষে সাক্ষী দিয়ে বলবে যে, এই
ভদ্রলোক আমাদের
কে লজ্জা পেয়ে টাখনুর ওপর প্যান্ট
পড়ত, তাই, আল্লাহ আপনি আজ
তাকে ক্ষমা করে দিন কারন সব দোষ
আমাদের। নীচের
হাদিসগুলো পড়ুন,জানুন, এবং ভাবুন
যে, প্রতিনিয়ত
কিভাবে আপনি আপনার
স্থানটা জাহান্নামে থাকার জন্য
নিশ্চিত করছেন।
☛ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
নবী (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওসাল্লাম)
বলেছেনঃ ইযারের যে পরিমান
টাখনুর নীচে যাবে, সে পরিমান
জাহান্নামে যাবে। (বুখারী শরীফ,
পোশাক অধ্যায়, হাদিস নং- ৫৩৭১)
☛ আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত
আছে একদা নবী (সাঃ) বললেন,
তিন প্রকার মানুষ আছে, যাদের
সঙ্গে আল্লাহ
তা’আলা ক্বিয়ামতের দিন কোন
কথা বলবেন না, তাদের
প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন
না এবং তাদেরকে পাক-সাফ
করবেন না । আর তাদের জন্য ভীষণ
কষ্টদায়ক আযাব নির্ধারিত রয়েছে ।
আবু যার (রাযিঃ) এ কথা শুনার
সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, তাদের
জন্য তো অধঃপতন ও ধ্বংস-
হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)!
তারা কারা? রাসুল (সাঃ) বললেন-
১) যে ব্যক্তি পরিধেয় বস্ত্র পায়ের
টাখনুর নীচে পৌঁছায়,
২) যে ব্যক্তি উপকারের খোঁটা দেয়,
৩) আর যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম
খেয়ে ব্যাবসার পণ্য বিক্রি করে।
(মুসলিম, মেশকাত হাঃ ২৬৭৩)
☛ জাবের ইব্ন সুলাইম রা. হতে বর্ণিত,
রাসূল সা. বলেন, “টাখনুর
নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পড়ার
ব্যাপারে সাবধান হও। কারণ,
তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আর
আল্লাহ অহংকার করাকে পছন্দ করেন
না।” (আবু দাঊদ।
আলবানী হাদীসটিকে সহীহ
বলেছেন)।
ইব্ন বায এবং ইব্ন উছাইমীন (রাহ.) এর
ফাতওয়াঃ
———————————–
ইব্ন বায (রাহ.) বলেন, “যে কোন
অবস্থায় টাখনুর নিচে কাপড়
ঝুলিয়ে পড়াকে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম অহংকারের
অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। কারণ,
তিনি বলেন, “টাখনুর নিচে কাপড়
ঝুলিয়ে পড়া থেকে সাবধান! কারণ
তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত।”
এখানে তিনি বিশেষ কোন
অবস্থাকে বাদ দেন নি।
সুতরাং যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে টাখনুর
নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরবে সে এ
শাস্তির আওতায় চলে আসবে। চাই
তা পায়জামা হোক বা লুঙ্গি,
কুর্তা বা অন্য কোন পোশাক। কোন
পোশাকের ক্ষেত্রেই টাখনুর
নিচে ঝুলিয়ে পড়ার সুযোগ নেই।”
মুহাম্মাদ ইব্ন সালেহ আল উছাইমীন
(রাহ.) বলেন, “অহংকার
বশতঃ যে ব্যক্তি লুঙ্গি টাখনুর
নিচে ঝুলিয়ে পড়বে তার
শাস্তি হল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ
তার সাথে কথা তো বলবেনই
না বরং তার দিকে তাকিয়েও
দেখবেন না।
এমনকি তিনি তাকে গুনাহ
থেকে পবিত্র করবেন না বরং তার
জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি আর
যদি অহংকার
বশতঃ ঝুলিয়ে পরে তাবে তার
শাস্তি হল, সে যতটুকু কাপড় টাখনুর
নিচে ঝুলিয়ে পরেছিল ততটুকু
আগুনে প্রজ্জলিত হবে।
(তথ্যসূত্রঃ ফাতওয়া আল বালাদুল
হারাম, ১৫৪৭, ১৫৪৯, ১৫৫০ নং পৃষ্ঠা)
সুতরাং যাদের আল্লাহ
ভীতি বেশি এবং যারা নাবী (সল্লাল্লাহু
‘আলাইহি ওয়া সল্লাম) এর অনুসরণ
করতে চান, সেই সব ভাইদের উচিত
গোড়ালির উপর প্যান্ট /লুঙ্গিপরা।
এখন ও সময় আছে, আজ ই তওবা করুন
এবং টাখনুর ওপর প্যান্ট/লুঙ্গি পড়ুন।
—>>>
বিঃ দ্রঃ-☛ : *পরুষদের কে অবশ্যই
টাখনুর উপরে কাপড় পড়তে হবে কিন্তু
নারীদের কে অবশ্যই টাখনুর
নিচে পড়তে হবে। যদি ও
আমরা আমাদের চার
পাশে প্রতিনিয়ত দেখছি যে,
অনেক নারীরা টাখনুর উপরে কাপড়
পড়ে নির্লজ্জের মত ঘরের
বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে,
যা ইসলামে হারাম এবং একটি জঘন্য
পাপ ও সীমালংগনের কাজ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.